Friday, April 3, 2015

হ্যাকিং এবং হ্যাকার (পর্ব- ১)





হ্যাকিং  শব্দটা বোধহয় এই পৃথিবীর অন্য কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে বেশি আলোচিত!  তা কতটা সেটা হ্যাকিং এর সাথে যারা জড়িত তারা বুঝতে পারেন। যারা সারাদিন হ্যাকিং শিখব হ্যাকিং শিখব বলে রীতিমত মুখে ফেনা তুলে, তারা লজ্জা কি জিনিষ তা ভুলে হ্যাকিং শিখার নেশায় অন্যের গোলাম বনে যায়, রিপোর্টিং করেঅন্যকে, অন্যের সম্পর্কে কিছুই না জেনে গালমন্দ করে আর আশায় থাকে ! অনেক জঘন্য কাজ করতেও কারো আপত্তি নাই তারা শুধু একটি জিনিষই দিবা স্বপ্ন দেখে - কেউ এসে তাকে হ্যাকিং শিখিয়ে যাবে। তাদের জন্য করুণা ছাড়া আর কিছুই নেই।  কারন বাস্তবতা এটা না! এটা কোন ছেলেখেলা না, সিলেবাসের কোন অংশ না, কোন লিমিট নেই এটার। এটা হলো ক্রিয়েটিভি। যার যত মেধা সে তত ভাল হ্যাকার হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষায় ফেল করা, ডিম পাওয়া স্টুডেন্ট যারা মুখস্থ বা কপি করে পাশ করে তারা হতে পারে না। এখানে মেধার ব্যাপারটা মাথায় রাখা উচিত।  এমন না যে, কুদ্দুস সাহেব যিনি রিকশা চালান তার হঠাৎ ইচ্ছা হলো উনি হ্যাকিং শিখবেন। আর এর উর ইনবক্সে মেসেজ দিলো আর শিখিয়ে দিল। বর্তমানে মনে হয় এরকম ঘটনা ঘটে।  কোন লেভেল নাই, কোন সীমাবদ্ধতা নাই। যার ইচ্ছা হয় সেই একটা একটা ফেসবুক আইডি খুলেই হ্যাকার হয়ে যেতে চান।





 ঠিক আগে যেমন বাংলা ছবির নায়কের টিশুম টিশুম ঘুষি দিতে দেখে অনেকেই সিনেমার নায়ক হতে চাইতেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়না । কিন্তু এখন একটা ফেসবুক আইডি থাকলেই হয়। 

বাস্তবতা ভিন্ন।   এটা সাধনার ব্যাপার। এটা একটা জগৎ । এখানে কিছু করতে গেলে তার আগে প্লাটফর্মে  দাড়াতে হবে। বেসিক জ্ঞান নিতে হবে। প্রোগ্রামিং শিখতে হবে। অনেস্টলি বলছি, যারা কম্পিউটারে পড়াশোনা করেন তাদের অধিকাংশই প্রোগ্রামিং সি তে কাঁচা বা পারেন না। কোন মতে পাশ করেন। বেশিরভাগ ফেইল ও করেন। এটা আমার অভিজ্ঞতা। প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যেখানে একজন কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র বুঝতে দিনের পর দিন পার করে, কোন রকমে পাশ করে সেখানে একেবারে নতুন আসা ব্যক্তিরা কিভাবে কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ বা অন্য কোন এপ্লিকেশন শিখবে সেটা ভাবার বিষয়। এটা তাদের কাছে স্রেফ মঙ্গল গ্রহের ভাষা বলে মনে হবে। হ্যাকিং এর চিন্তা তো তখন চীনের দূরত্বে! প্লিজ আগে হ্যাকিং জিনিষটা কি সেটা জানার চেষ্টা করেন।  এর জন্য কি কি শিখতে হবে, সে সব বিষয় গুলো আপনি অদৌ শিখতে পারবেন কিনা? এ জিনিষ গুলো একটু মাথায় রেখে তারপর হ্যাকিং শিখবেন কিনা সেটা ভাবা  উচিত।




তো, যারা হ্যাকিং শিখবেন করে  করে  মুখে ফেনা তুলে যাচ্ছেন, এর ওর প্রোফাইলে গিয়ে নক দিচ্ছেন ভাই প্লিজ হ্যাকিং শিখান! তাদের প্রতি আমার একটা প্রশ্ন- হ্যাকিং শিখে কি করবেন? আপনার আল্টিমেট গোল কিএটা শিখে আপনি কি করতে চান? আপনার কোন উপকার হবে? লাভবান হবেন নাকি সময় নষ্ট করবেন? হ্যাকিং করে আপনি কি আর্ন করতে পারবেন? সেটা কি আপনার কোন কাজে আসবে ভবিষ্যতে? যদি নাই আসে তাহলে স্ট্রিক্টলী বলব, এই চর্চার চিন্তা বাদ দিন।  শুধু শুধু সময় নষ্ট করবেন না। মনে রাখবেন জীবনে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। যা করে আপনার কোন কাজে আসবেনা তা করতে যাবেন না। আর যদি মনে করেন হ্যাকিং শিখে কারো ক্রেডিট কার্ড মেরে দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা কামাবেন,   ধান্ধা করবেন হ্যাকিং এর নাম করে। তাহলে ওয়েলকাম !  সেক্ষেত্রে লাল দালানের কথাটাও মাথায় রাখা উচিত।


আর যদি আপনার উত্তর হয় এরকম-  না ভাই আমি হ্যাকিং শিখে দেশের উপকার করব! তাদের বলব দেশের উপকার করার জন্য অনেকেই আছে। দেশে হাজার হাজার আইটি স্পেশালিষ্ট আছে। দেশের সেবা করার জন্য অনেকেই রাত দিন খেটে, খেয়ে  না খেয়ে কাজ করার যোগ্য মানুষ আছে। আগে নিজে কি কারনে এই জগতে পা বাড়াতে চান সেটা নিজের কাছে ক্লিয়ার হয়ে নিন।  আর দুয়েকটা সাইট ডিফেস দিলেই সেটা েশের কোন উপকারে আসে না।  আগে চিন্তা করুন হ্যাকিংটা আসলেই আপনার জীবনে কোন ফল বয়ে আনবে কিনানা আনলে বাদ দিতে পারেন। আর বাদ না দিলে যা হবে-



  • কেউ আপনাকে নিয়ে ছেলে খেলা করবে।
  • মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপনাকে দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত সার্থ উদ্ধার করবে।
  • কারো টাইম লাইনে হ্যাকার পরিচয় দেখে তাকে মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করবেন। 
  • উত্তর না পেলে গালি দিয়ে চলে যাবেন।
  • ভাগ্যক্রমে কোন দিন কোন রকমে এসকিউএল এর কিছু সিনট্যাক্স মুখস্থ করবেন।
  • একটা সাইট ইঞ্জেক্ট করবেন (! ধরে নিলাম)
  • একটা সাইট ডিফেস দি্বেন ! (ধরে নিলাম)



শুরু হবে ভাব নেওয়া, ভাবতে শুরু করে দেবেন আমি সব শিখে গেছি, আমি এখন বিশাল হ্যাকার। নামের পাশে হ্যাকার লাগাই রাখবেন।  খুব অহংকার চলে আসবে মনে । কোন রেস্পেক্টেড ব্যাক্তিকেও তখন সম্মান দিতে পারবেন না। কারন তখন আপনি নিজেকে অন্য গ্রহের প্রানী ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন।


আর অন্যদের প্রতিক্রিয়াঃ অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী , অল্প পানির মাছ লাফাই বেশি । ল্যামার পরিচিতি । এধরনের মানুষ গুলোকে কেউ গোনায়ই ধরবেনা। সো প্লিজ! শুধু হ্যাকিং হ্যাকিং করে নিজের মাথা নিজে নষ্ট করবেন না, অন্যদের ও না!


 
হ্যাঁ, আপনার ভবিষ্যৎ কোন পরিকল্পনা বা আপনি যদি আইটি বিষয়ে পড়াশোনা করেন, ভালো প্রোগ্রামার হওয়ার স্বপ্ন থাকে, কোন সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট হতে চান আর এর মধ্যেই আপনার ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে চান তাহলে আপনি হ্যাকিং কে আপনি নিতে পারেন।  কারন আপনার ক্যারিয়ারে এই নলেজ গুলো কাজে আসবে। সব না, কিছু কিছু। যদি আপনি ভিবি ডট নেট এর কাজ করেন, তাহলে হ্যাকিং আপনার খুব বেশি কাজে আসবেনা। যদি ওয়েব বেইসড এপ্লিকেশনে কাজ করেন, তাহলে এর মধ্যে কিছু জিনিষ কাজে আসবে।    আপনি যদি আইটি লাইনে পড়াশোনা করেন, ক্যারিয়ার করেন তাহলে হ্যাকিং শিখার আগে মিনিমাম রিকোয়ারমেন্টস গুলো আপনার রপ্ত করতে হবে। হ্যাকিং শিখতে পারেন আর না পারেন, কিছু নতুন জিনিষ জ্ঞান ভান্ডারে যোগ হলে মন্দ না। এর জন্য অন্যকে নক না করেও অনেক কিছু শিখতে পারেন যদি গুগলকে ব্যাবহার করতে জানেন।


দুঃখের সাথে বলতে হয় যারা হ্যাকিং শিখতে আসে তাদের বেশির ভাগ মানুষই গুগল কি সেটাই জানেনা।  অল্প বিদ্যা নিয়ে কখনই বাহাদুরী করবেন না। মনে রাখবেন চার দেয়ালের মাঝে বন্দি আপনি। আর বিশাল দুনিয়া পড়ে আছে যা আপনার কল্পনাতেও নেই কি হচ্ছে সেখানে, কেমন ফাস্ট অন্যরা। বিনয়ী হতে শিখুন।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা হচ্ছে সেটা খুব দুঃখজনক। লক্ষ্য করলে দেখবেন বয়সে ছোট, ক্লাস ৬, ১০ এ পড়ুয়াদের মধ্যে এই ঝোকটা অতি বেশি যাদের মধ্যে ম্যাচুরিটি জিনিষটা আসেনি। তাই তারা কাউকে যোগ্য সম্মান দিতে পারেনা। এর উপড়ের লেভেলেও অনেকেই আছেন যারা নিজেকে বড় করে দেখাতেই ব্যস্থ।   কেউ কষ্ট করে শিখতে চায়না। সবাই শর্টকার্ট পদ্ধতিতে ১ দিনে হ্যাকার হতে চায়। তারা যদি একবার বুঝতে পারত, এই ব্যাপারটা আসলে ছেলে খেলা না। এটা অনেক সাধনার ব্যাপার। দুয়েকটা টিউটোরিয়াল দেখে শিখার বিষয় না এটা। বা কোন একটি এপ্লিকেশন দেখেও শেখার বিষয় না। এটার  জন্য বেসিক গুলো শিখতেই হয়ত বছর পার হয়ে যাবে, সারাদিন পিসিতে বসে প্র্যাক্টিস করতে হবে!!!



 
মনে হয় না খুব বেশি কেউ আর ইন্টারেস্টেড হবে। কারন কেউ কষ্ট করতে রাজি না। সবাই ৩ দিনে হ্যাকার হতে চায় ! তাই তো আজ বাংলার  আকাশে বাতাসে হ্যাকার!!! কিছুদিন আগেও যেখানে হ্যাকারের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা আজ সেখানে রাস্তাঘাটে হ্যাকার পাওয়া যায়। নামে হ্যাকার আরকি !  অথচ যারা সেক্টরে কাজ করে, যারা অনেক বেশি জানেন, যারা প্রকৃত লীড তাদের কেউ চিনেনা পর্যন্ত!!!  শাহী মির্জা ভাইকে কয় জন চেনে? তারেক ভাই বা ফয়সাল ভাই কে কয়জনে চিনে বলতে পারেন? তাদের কোন শো অফ নাই বলে তারা চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছেন। তারায় হলো সম্মানের পাত্র।



একটা কথা মনে রাখবেন যারা প্রকৃত হ্যাকার তারা কোন দিন শো অফ করে না, তারা কোন অহংকার দেখায় না, তারা বিনয়ী কারন তারা বিশালতা সম্পর্কে জানে। তারা যা জানে তাতে সন্তুষ্ট থাকতে পারেনা, আরো শিখতে চায়।  দুঃখজনক হলেও সত্যি সাইবার স্পেসে নতুন এসেছে তারা এখন শো অফ করে আর সবাই ভাবে তারা কি না কি! তাদের পা চাটা শুরু করে । আরে সেই সব ব্যাক্তি বর্গ ও ভাব নিতে থাকেন।  আর পর্দার আড়ালে আসল মানুষ গুলোয় কাজ করে যায় দিনের পর দিন। আরে সুবিধাবাদীরা অন্যদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে হিরো হয়ে যান। হয়ত এটাই নিয়ম!!!  পর্দার আড়ালের মানুষ গুলো এভাবেই নীরবে কাজ করে যায় আর অল্পবিদ্যাবিদদের দৌড় ঝাপ চলতেই থাকে!!!!

পরের পর্বঃ  ২য় পর্ব

Wednesday, November 12, 2014

সিকিউর করুন আপনার ফেসবুক আইডি!



বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের অনেকটা জুড়েই রয়েছে ফেসবুকের প্রভাব। আমাদের অনেক হাসি কান্না, সুখের স্মৃতি, সবই ফেসবুক কে ঘিরে গড়ে উঠেছে। আর যখন কোন কারনে আপনার একাউন্টটি বেহাত বা হ্যাকিং এর শিকার হয় তখন আপনার অনুভুতি কি আমরা বুঝি। ফেসবুক তার এত বেশি সিকিউরিটি রাখার পরও বেশীরভাগ মানুষ তাদের আইডিতে নিরাপত্তা দিতে জানেন না। যা খুব দুঃখ জনক। যার কারনে খুব সহজেই আপনার একাউন্টটি বেহাত বা হ্যাকিং এর শিকার হয়।



আবার অনেক ঠক , প্রতারক, ভন্ডরা মানুষের এই না জানা বিষয় গুলো নিয়ে তাদের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এধরনে ভন্ডদের দিন শেষ করতেই আমরা বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স আবার আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এসব বেহায়া, ভন্ড , ডিজিটাল ফকির দের দিন শেষ!!! তাদের এসব নির্লজ পোস্ট দেখলে লজ্জায় মাথা নুয়ে আসে। মাত্র ৭০-১০০ টাকা দিয়ে নাকি তারা ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। আসলে এসব সব ঠক। কেউ চাইলেই ফেসবুক হ্যাক করতে পারে না। আর ৭০ বা ৭ লাখ দিয়ে তো নয়ই। তারা শুধুই প্রতারনা করতে আসে আর কিছু নয়। সময় এসেছে, এসব ২ পয়সার ভন্ড হ্যাকারদের বাংলাদেশের সাইবার স্পেস থেকে চিরতরে বিদায় দেওয়ার। এখন থেকে যেখানেই এদের দেখা পাবেন সেখানেই ধোলায় দেবেন এধরনের পোস্ট দেখলেই বুঝবেন, এরা ঠক, প্রতারক। এদেরকে পাত্তা দিবেন না। এক সময় এরা নিজ থেকেই হারিয়ে যাবে।






ওকে, আসুন শুরু করা যাক ফেসবুক নিরাপত্তা বিষয়ক ইস্যুগুলো যে গুলো দিলে আপনার আইডি সুরক্ষিত থাকবে। আমাদের টিপস গুলো ফেসবুক সিকিউরিটি নিয়ে জানেন না এমন মানুষের জন্য। বেশির ভাগ মানুষই জানেন না তার আইডি কিভাবে সিকিউর করতে হয়। ফ্যান পেজে এরকম অসংখ্য রিকুয়েস্ট আমরা পেয়েছি, যারা তাদের ফেসবুক সিকিউর করার টিপস চেয়েছেন। তাদের সবার উদ্দেশ্যে আজকের এই টিউটোরিয়াল। আসা করছি সবাই উপকৃত হবেন। যারা জানেন, তারাও নতুন কিছু জেনে উপকৃত হবেন। ছবি ভাল করে দেখতে ছবির উপড় ক্লিক করবেন।

তো চলুন শুরু করা যাক...




সিকিউরিটি টিপস




১. পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন নাঃ আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড ভুলেও অন্য কারো সাথে শেয়ার করতে যাবেন না। হোক সে আপনার স্বামী/স্ত্রী, বয় ফ্রেন্ড/ গার্ল ফ্রেন্ড। ফেসবুক একাউন্টটি একান্তই আপনার। 

বা কোন লোভনীয় লিঙ্ক দিয়ে বলা হল আপনার ফেসবুকের আইডি আর পাসওয়ার্ড দিতে, ভুলেও এসব ফাঁদে পা দিতে যাবেন না। ফেসবুক এর আইডি পাসওয়ার্ড দিন শুধু মাত্র এই লিঙ্কে https://ww.facebook.com .  এছাড়া অন্য কোন লিঙ্কে লগিন করবেন না। না হলে phishing এর শিকার হবেন চ্যাটে বা পোস্ট কেউ কিছু পাঠালে জিজ্ঞেস করে নিন লিঙ্ক বা ফাইলটি কিসের? ফাইলগুলো ক্লিক করার আগে অনলাইন স্ক্যানার দিয়ে চেক করে নিতে পারেন। অনলাইন স্ক্যানার এর মধ্যে খুব ভাল একটি সাইট ভাইরাস টোটাল। (http://www.virustotal.com)এখানে গিয়ে আপনার ফাইলটি স্ক্যান করে নিন।







এছাড়া আপনার ব্রাউজারটি সব সময় আপডেটেট রাখুন। 





. ফেসবুকে আজে বাজে এপস ব্যাবহার না করাঃ 

ফেসবুকে অনেক মজার মজার, গেইমস, ফান সহ আরো  এপস আমরা দেখতে পাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনি এপসটি চালু করার সময় আপনার একাউন্ট এর অনেক জিনিষ এক্সেস এর অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন? যার ফলে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য আর নিরাপদ থাকেনা।  তাই মজার মজার এপ চালানোর আগে ভাল ভাবে দেখে নেবেন। আর যেসব এপস চালাচ্ছেন না, সে গুলো ডিজেবল করে দিন। নিজের ব্যাক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সব চেয়ে ভাল হয় থার্ড পার্টি এপস টোটালী ব্যাবহার না করেন।





. সেকেন্ডারী ইমেইল যোগ করুনঃ আপনার ফেসবুকে একাউন্টে মেইন বা প্রাইমারী মেইলের পাশাপাশি আরেকটি ইমেইল যোগ করুন যা সেকেন্ডারী ইমেইল নামে পরিচিত। যদি কোন কারনে আপনার ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাক হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে আপনার সেকেন্ডারী ইমেইল দিয়ে আপনার আইডি রিকভার করতে পারবেন। এটি খুবই গুরুত্বপুর্ন।





. স্ট্রং পাসওয়ার্ড এবং সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফাঁদঃ আপনার পাসওয়ার্ড যদি হয় ১২৩৪৫৬  তাহলে আপনার পাসওয়ার্ড দেওয়া আর না দেওয়া এক কথা। আবার যদি পাসওয়ার্ড হিসেবে আপনি ব্যাবহার করেন আপনার নিজের ফোন নাম্বার, নিজের নাম, আপনার রোল নাম্বার, আপনার গার্লফ্রেন্ডের নাম তাহলেও আপনার একাউন্টটির পাসওয়ার্ড দেওয়া আর না দেওয়া একই কথা। যে কোন মুহুর্তে হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় একাউন্টটি। নিজের নাম, ফোন নাম্বার এসব যে কেউ অনুমান করে আপনার আইডি হ্যাক করতে পারে। বা ধরুন কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করল আপনার বাড়ী কই? ফোন নাম্বার , কোথায় পড়েন, স্কুল/কলেজ, ইউনিভার্সিটির নাম, বা আপনার প্রিয় মানুষের নাম। আর আপনি খুশিতে গদ গদ হয়ে সব বলে দিলেন। আসলে আপনি বুঝতেই পারেননি আপনি সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিকার হয়েছেন। আর কেউ আপনার এই ইনফরমেশন কে কাজে লাগিয়ে আপনার একাউন্ট হ্যাক করার চেস্টা করে অনেক সময় সফল ও হয়ে যায় । কারন আপনার হয়ত পাসওয়ার্ড ছিল আপনার ফোন নাম্বারটি ০১৭৮৯***** বা আপনার প্রিয় মানুষের নাম। 


তাই এধরনের পাসওয়ার্ড কখনোই দেবেন না। পাসওয়ার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাবহার করুন ইউনিক কিছু যা অন্যের অনুমানের বাইরে।  একটি ভালমানের এবং স্ট্রং পাসওয়ার্ডের নমুনা দিলাম- D!gital_Fokirer_Din_Shesh!@#$% এটি আপনার মত করে আরো ছোট করে নিতে পারেন তবে স্পেশাল কারেক্টার, নাম্বার, সব ইউজ করে দুর্বেধ্য একটি পাসওয়ার্ড দিন। আর পাসওয়ার্ডটি এক মাস পর পর বা ১৫ দিন পর পর পরিবর্তন করুন । পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে Account Settings > General > Password.





. সিকিউর ব্রাউজিং করছেন কিনা চেক করুনঃ যখন ফেসবুক চালাচ্ছেন তখন খেয়াল করুন আপনি সিকিউর ব্রাউজিং করছেন কিনা। আগে যদিও এরকম একটি অপশন ছিল। কিন্তু ফেসবুক এখন বাইডিফল্ট তাদের সিকিউর ব্রাউজিং এনাবল করে দিয়েছে প্রতি ইউজারের জন্য। আপনি ফেসবুক সিকিউর ব্রাউজিং করছেন কিনা তা চেক করুন, যদিও এটি অটো হয়ে যায় আপনার ব্রাউজারের ইউআরএলে। যেখানে লিঙ্কটি হবে এরকম https://.




. লগিন এপ্রুভাল চালু করুনঃ   আপনার  পাসওয়ার্ড কেউ জানলেও আর হ্যাক হবে না আপনার একাউন্টঃ !!!!  হ্যাঁ, ঠিক তাই। ধরুন কেউ কোন ভাবে আপনার পাসওয়ার্ড পেয়ে গেল। কিন্তু তাতে কি? মেইন চাবি তো আপনার হাতে!!! সুতরাং এখন থেকে আপনার পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও হ্যাক হতে হবে। এজন্য ফেসবুকের একটি দারুন এবং কার্যকর অপশন হচ্ছে লগিন এপ্রুভাল।

লগিন এপ্রুভাল হলো এমন একটি সিকিউরিটি ব্যাবস্থা, যেখানে ২ স্তরে আপনার একাউন্ট যাচাই করা হবে। প্রথমে আপনি ঠিক ঠাক পাসওয়ার্ড দিতে পারলে তারপর আপনার ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে একটি সিকিউরিটি কোড পাঠানো হবে। যা শুধু আপনার ফোনেই আসবে। যতক্ষন পর্যন্ত আপনার ফোনে আগত কোডটি আপনি না দিচ্ছেন ততক্ষন আপনার একাউন্টে লগিন হবে না। সুতরাং আপনার একাউন্ট আপনি ছাড়া আর কেউ লগিন করতে পারবেনা। যখনই ভিন্ন কোন ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্টে লগিন করার চেস্টা করা হবে তখনই আপনার ফোনে সিকিউরিটি কোড আসবে, এবং ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে জানিয়ে দেবে, কেউ একজন আপনার একাউন্ট লগিন করার চেস্টা করছে! 



আসুন দেখি কিভাবে চালু করবেন লগিন এপ্রুভালঃ 

Settings>Security>Log In Approvals>Edit এ যান।

  • স্টেপ-১ঃ






এই কাজটি খুব ইমপরট্যান্ট!অবশ্যই করে নেবেন।

  • স্টেপ-২: তারপর Require a security code to access my account এর পাশের বক্সে ক্লিক করুন।তারপর এমন লেখা আসবে। 
  





  • স্টেপ-৩: Get Started এ ক্লিক করুন।তারপর Continue দিন।এখন Phone Number এর ঘরে প্রথমে শুন্য ছাড়া আপনার ১০ ডিজিটের মোবাইল নং দিন এবং Continue তে ক্লিক করুন।



     লগিন প্রোভাল চালু করার পর আপনার সিকিউরিটি সেটিং টা এমন দেখাবে—








    এরপর চালু হয়ে যাবে আপনার লগিন এপ্রুভাল । যদি ডিভাইসটি আপনার পার্সোনাল হয়, (ফোন/পিসি) তাহলে ব্রাউজার সেভ করে নিন। এতে বার বার আপনার কাছে কোড চাইবেনা। এখন অন্য কোন ডিভাইস থেকে লগিন করতে চাইলেই আপনার ফোনে একটি কোড আসবে, এবং এ কোড ছাড়া কোন অবস্থাতেই কাউকে লগিন করতে দেবে না।  সাথে সাথে আপনার কাছে একটি ই-মেইল ও চলে যাবে যে কেউ অন্য ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্ট লগিন করার চেস্টা করছে। এক্ষেত্রে ফেসবুক ই-মেইলে আপনাকে করনীয় কি তা বলে দেবে।




    . Code Generator চালু করুন:  ধরুন আপনি লগিন এপ্রুভাল চালু করলেন। কিন্তু আপনার ফোন নেটওয়ার্কের বাইরে। বা আপনার ফোন নস্ট হয়ে গেছে। এখন কি হবে? চিন্তা নেই। এক্ষেত্রে ইউজ করতে পারেন কোড জেনেরাটর। যেখানে আপনাকে বেশ কিছু কোড দেওয়া হবে, এবং কোড চাইলে এই কোড দিয়ে লগিন করতে পারবেন । তবে এটি চালু করার জন্য কিছু কাজ করতে হবে। আসুন দেখি স্টেপ গুলো। 
     



    • স্টেপ-১ 



    • স্টেপ-২ঃ এর পর নিচের মত আসবে। এখন আপনার ফোন থেকে কোড জেনেরাটর এ গিয়ে এক্টিভ করতে কন্টিনিউ করুন।






     
    এর পর আপনাকে বেশ কিছু কোড দেওয়া হবে। যা আপনি সেভ  জায়গায় রেখে দিয়ে পরে কাজে লাগাতে পারবেন।






    . লগিন সেশন চেক করুনঃ ফেসবুক আপনার লগিন এর সময় আপনি কোন অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করছেন, কোন লোকেশন থেকে, কোন ডিভাইস দিয়ে তা আপনার সুবিধার্থে জমা রাখে। যা আপনি প্রতিনিয়ত চেক করে বুঝতে পারবেন আপনার একাউন্ট অন্য কেউ ব্যাবহার করছে কিনা। এজন্য প্রথমে সেটিংস থেকে Where you’re Logged In ক্লিক করুন এর পর Edit এ ক্লিক করুন।


      


    এরপর নিচের ছবির মত আসবে।






    এর পর আপনি যে লোকেশনে সর্বশেষ ব্রাউজিং করেছেন, আপনার ওএস, সময়  দেখাবে। যদি দেখেন মিল নেই, তাহলে ধরে নেবেন আপনার একাউন্টটি আর সিকিউর নেই! এরকম কিছু দেখলে End Activity তে ক্লিক করুন। অর্থ্যাৎ ঐ সেশনটি বাতিল হয়ে যাবে। এরকম সেশন একটি চালু রাখুন। বাকী গুলো End Activity দিয়ে ক্লোজ করে দিন



    . Log Out করাঃ  এই কাজটি অনেক মানুষই করেন না। অনেক সময় সাইবার ক্যাফে বা বন্ধুর মোবাইল বা পিসি থেকে লগিন করার পর আর লগ আউট করেন না। ফলে এই সুযোগে বেহাত হতে পারে আপনার একাউন্টটি। তাই অন্য ডিভাইস থেকে ব্যাবহার করার পর অবশ্যই লগ আউট করে নিবেন। 

    ১০. আপনার ই-মেইলে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন রাখুনঃ   আপনার ই-মেইল ঠিকানাটিও অনেক গুরুত্বপুর্ন। তাই এটিকেও টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন দিয়ে রাখুন যাতে কেউ লগিন করলেও সিকিউরিটি কোড আপনার ফোনে আসে এবং আপনি ছাড়া আর কেউ লগিন করতে না পারে।



    ধন্যবাদ। আজ এই পর্যন্তই। সামনে আরো টিপস নিয়ে আসব বলে আশা করি। আপনারা ফীড ব্যাক দিন। আপনাদের ফীড ব্যাকের উপড় পরবর্তী টিউটোরিয়াল দেওয়া হবে। সবাই ভাল থাকুন, নিরাপদে থাকুন, নিরাপদে থাকুক আপনার ফেসবুক আইডি।
     



    আল্লাহ হাফেজ।

    [বিঃদ্রঃ লেখাটি কোথাও সরাসরি কপি পেস্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সোর্স লিঙ্ক দেবেন এবং বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্সের অফিশিয়াল পেজের লিঙ্ক দিয়ে দেবেন https://www.facebook.com/bd.black.hat.hackers ]

    ধন্যবাদ।  
    Bl@ck ExpLoRer.